Khaleda defends her pro-Jamaat stance

Terming the Awami League government the “most communal”, BNP Chairperson Khaleda Zia yesterday called upon all to “reject” this government in a bid to establish religious harmony and “save the country”.

The leader of the opposition also asked youths to get united and oust the government to save their future as well as to save the country from the hands of AL.

PM questions Khaleda’s role

“You [youth] did not get a chance to take part in the 1971 Liberation War. But now, you have the opportunity and time to protect the country from the hands of Awami League,” Khaleda said while addressing at a peace rally on Ukhia High School ground in Cox’s Bazar.

The BNP chief left Dhaka on Friday on a three-day visit to Chittagong and Cox’s Bazar to reassure the Buddhist community, forty-two days after the attacks on the minority community’s houses and temples had taken place.

On the night of September 29 and the following day, a mob destroyed over a dozen temples and their houses in Ramu, Patiya and Ukhia. The violence was triggered apparently by a Facebook photo defaming the Holy Quran.

Several hundreds of Buddha statues were also looted from different temples and monasteries during the mayhem that led to huge criticism at home and abroad.

On the concluding day of her visit in the ravaged areas of Ukhia, Khaleda yesterday categorically blamed a local AL leader for carrying out attacks on Buddhist’s houses and temples in the area.

Without naming Hamidul Haq Chowdhury, general secretary of AL’s Ukhia unit, Khaleda said Prime Minister Sheikh Hasina recently visited abroad taking the local AL leader with her.

“Arrest and try him [Hamidul] who accompanied you [PM] during your travel abroad, [and then] everything behind the massacre will be revealed,” Khaleda claimed.

Terming AL government the most communal, the BNP chief said the ruling party men tortured Hindu people, attacked their temples, grabbed their homes and looted wealth.

“They stole valuables from Hindu temples; and they even insulted Muslims by wearing cap on dog’s head,” she alleged.

Khaleda said situation of the country was so worse at present that people of every religion were unsafe under the rule of the present government.

Apart from speaking on the attacks on Buddhist’s temples, the BNP chief spoke on the next general elections.

In her over 20-minute-long speech, Khaleda called upon the people of Ukhia not to make further mistake in choosing who to vote.

“You will have to suffer again if you choose the wrong candidate. So, cast your vote for the BNP-led alliance to ensure development in your locality,” she said.

The former premier said: “I can promise that BNP-led alliance will move the country forward if we are voted to power in the next elections. We will create huge job opportunities for unemployed youths, reduce prices of agricultural equipments and if necessary, we will give subsidy.”

Khaleda also reiterated her demand to restore the caretaker government system to hold the next elections.

After the meeting at Ukhia, the BNP chief visited Dulahazra Safari park at Chakoria and spent some time there before going to Chittagong Circuit House.

She exchanged views with Buddhist leaders of Patiya upazila at the Circuit House last night before she left the port city for Dhaka.

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গতকাল রামুর খিজারী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমাবেশে জনতার শুভেচ্ছার জবাব দিচ্ছেন 

নয়া দিগন্ত
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজারের রামু ও চকরিয়ায় বিশাল জনসমুদ্রে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে বাধ্য করতে দলটির ওপর নির্যাতন বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। সরকার জামায়াতকে তাদের পক্ষে আনার চেষ্টা করছে। অতীতে তারা জামায়াতকে সাথে নিয়ে তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে আন্দোলন করেছে। তখন রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী কোথায় ছিলÑ এই প্রশ্ন রাখেন তিনি। এখনো জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগ যে তলে তলে যোগাযোগ করছে না তা কে জানে? আমরাও যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই। কিন্তু তা হতে হবে নিরপে ও আন্তর্জাতিক মানের। সরকার মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। খালেদা জিয়া বলেন, আমরা প্রতিশোধ চাই না। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তার টিভি ফুটেজ রয়েছে। এসব সত্য ঘটনার আইন অনুযায়ী বিচার করা হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘এ জন্য প্রস্তুত থাকুন’। তিনি বর্তমান সরকারকে বিশ্বচোর ও লুটেরা আখ্যা দিয়ে বলেন, এদের হটাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দলীয় নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে।
বেগম খালেদা জিয়া রামুর বিশাল এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমাবেশে বলেন, আওয়ামী লীগ এখন জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার বলছে। বিচারের নামে জামায়াত নেতাদের আটকে রেখেছে। কিন্তু তারা ’৯৬ সালে জামায়াতকে সাথে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। মাওলানা নিজামীকে পাশে রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ’৮৬ সালে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গেছে জামায়াতকে সাথে নিয়ে। তখন কোথায় ছিল যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গ? এখনো তারা তলে তলে জামায়াতে ইসলামীর সাথে যোগাযোগ করছে কি না কে জানে। আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা যায় না। জামায়াত এখন সন্ত্রস্ত্র। এ অবস্থায় তাদেরকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করার জন্য দলটির ওপর অত্যাচার-নির্যাতন বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তিনি চিরদিন মতায় থাকতে চান। এ কারণে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়েছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে দলীয় সরকারের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার নির্যাতন করতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে চলেছে। কিন্তু আমরা প্রতিশোধ বা বদলার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তবে সত্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী বিচার করা হবে। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, গানপাউডার দিয়ে গাড়ি জ্বালিয়ে দিতে বলেছেন, এর টিভি ফুটেজ ও রেকর্ড রয়েছে। অতএব বিচারের জন্য প্রস্তুত থাকুন। পালানোর পথ পাবেন না।’
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেতার কথা বলে অন্য ধর্মের লোকদের ওপর অত্যাচার করে, তাদের সম্পদ দখল করে। কিন্তু আমরা সবার স্বাধীন ধর্মকর্মের মূল্যবোধে বিশ্বাসী। এ দেশে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই।
গতকাল শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের রামুর খিজারী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় বিএনপি সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে।
শুক্রবার ঢাকা থেকে রওনা হয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাতযাপনের পর গতকাল বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজরের উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। রামুর তিগ্রস্ত বৌদ্ধবিহার ও বসতি পরিদর্শনে যাওয়ার আগে বেলা দেড়টায় চকোরিয়ার এই পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি। চট্টগ্রাম থেকে চকোরিয়া পর্যন্ত এক শ’ কিলোমিটার পথে পটিয়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন, জামায়াতে ইসলামী ও এলডিপির নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ হাজার হাজার মানুষ রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘ সময় পর এ অঞ্চলে খালেদা জিয়ার আগমনে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি সংবলিত ডিজিটাল ব্যানার ফেস্টুন, পোস্টার নিয়ে আনন্দ উল্লাস করে নেতাকর্মীরা এ উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করেন। আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের ছবি সংবলিত ব্যানার ও বিপুলসংখ্যক তোড়ন রাস্তাজুড়ে শোভা পায়।
এর আগে দুপুরে চকোরিয়া বাসস্ট্যান্ডে এক পথসভায় খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এদেরকে হটাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু, হলমার্ক, ডেসটিনি কেলেঙ্কারিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবার ও মন্ত্রিপরিষদ জড়িত। এসব ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরও জামাই আদরে রাখা হয়েছে। কারণ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা রাঘব বোয়ালদের নাম বলে দিতে পারে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়ঙ্কর খারাপ’ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আওয়ামী লীগকে মতা থেকে ‘চিরতরে’ বিদায় করতে হবে। এ জন্য নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবার সমর্থন চান তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন। চকোরিয়া থেকে বেলা আড়াইটায় রামুর উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। সেখানে তিগ্রস্ত বৌদ্ধমন্দির ও ঘরবাড়ি পরিদর্শন শেষে সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য দেন।
রামু উপজেলা বিএনপি সভাপতি আহমদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্প্রীতি সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মো: নাছির উদ্দিন, স্থানীয় এমপি লুৎফর রহমান কাজল, জামায়াতের এমপি শামসুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের আ: লতিফ নেজামী, বিএনপি নেতা, গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, গোলাম আকবর খোন্দকার, জামায়াতের জেলা আমির মো: শাহজাহান, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা ড. সুকোমল বড়ুয়া, অধ্য ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরো প্রমুখ।
রামুর ঐতিহাসিক সীমাবিহারে প্রবেশ করে বেগম জিয়া সেখান বৌদ্ধভিু ও ভক্তদের সাথে কথা বলেন। তাদের সমবেদনা জানান এবং সান্ত্বনা দেন। তিনি দেখেন যে, প্রাচীন এই বিহারটি পুড়ে বিবর্ণ-বিধ্বস্ত রূপ ধারণ করেছে।
খালেদা জিয়া বলেন, আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। বৌদ্ধরা নিরীহ, তারা শান্তিময় জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন। ২৯ সেপ্টম্বরের ঘটনায় সাথে সাথে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। তাৎণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা উচ্চপর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি করার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার করেনি, কারণ এতে আওয়ামী লীগ জড়িত। ওই তদন্ত কমিটি করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসত। এখান থেকে থানা মাত্র দুই শ’ গজ দূরে। ঘটনার সময় পুলিশ আসেনি। কারণ সরকার নির্দেশ দেয়নি। এই একই ঘটনা তারা বিডিআর হত্যাকাণ্ডেও ঘটিয়েছিল। এখন সরকারের লোকেরা এসে মায়াকান্না করছে। গত দুই মাসে তারা কোনো কাজ করেনি। আমরা আসব শুনে তারাহুড়া করে কিছু ঘরবাড়ি বানাচ্ছে। তারা চায়নি আমরা এখনো আসি। এ কারণে আমি ফেনী থেকে আসার পর সেখানকার গডফাদার ককটেল মেরেছে, যাতে আমরা রামুতে না আসি। তিনি বলেন, এই আওয়ামী লীগ যতবার মতায় এসেছে ততবার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতন করেছে। আমি তরুণদের বলব, তোমরা পুরনো বইপত্র ঘেঁটে দেখো, তাহলে দেখতে পাবে ’৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত তারা কী করেছিল। তোমাদের সামনে আওয়ামী লীগের মুখোশ খুলে যাবে।
বেগম জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ এবার মতায় এসেছে লুটপাট, নির্যাতন আর খুন-গুম করতে। আওয়ামী লীগ নাকি ধর্মনিরপে! মূলত এটা তাদের মুখোশ, বাহ্যিক আবরণ। বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা বলে। আওয়ামী লীগকে যদি দেখেন বুঝতে পারবেন প্রতিদিন গুম আর খুন তাদের কাজ। জিনিসপত্রের দাম বেশি, তাদের কাছে মানুষের রক্তের দাম নেই। ৪ টাকার লবণের দাম এখন ৩২ টাকা।
খালেদা জিয়া বলেন, ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের দয়ায় আওয়ামী লীগ মতায় এসেছে। তাদের কিসের ভয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে? খেলতে গেলে মাঠ সমান থাকতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তিনি পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, আওয়ামী লীগই চিরস্থায়ী সরকার নয়। তাদের কথা শুনবেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অন্যায় আদেশ মানবেন না। এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ১৭ বছর জেল হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নামে যতগুলো মামলা রয়েছে তার নিরপে বিচার হলে শাস্তি হতে পারে। অথচ তার নামে মামলা তুলে নেয়া হয়েছে। আর আমাদের নামে হয়রানির মামলা দেয়া হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বৌদ্ধদের উদ্দেশে বলেন, যারা আপনাদের তি করেছে তাদের বিচার হবে। আমরা সরকারে এলে বৌদ্ধদের ঘরগুলো সুন্দর করে গড়ে দেবো। বিদেশ থেকে মূর্তি এনে সাজাতে পারবেন।
বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজার সার্কিট হাউজে শনিবার রাতযাপন করেন। আজ উখিয়ায় বৌদ্ধবসতি পরিদর্শন করে বিকেলেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গতকাল সকালে সড়ক পথে কক্সবাজারে রামু বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনে যাওয়ার সময় দণি চট্টগ্রামের তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু থেকে কক্সবাজারের রামু পর্যন্ত হাজারো মিছিল ও সমাবেশ থেকে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিএনপি ও এলডিপির নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনতা ও হাজার হাজার নেতাকর্মী।
সময় স্বল্পতার কারণে বেগম জিয়া কোথাও কোনো পথ সমাবেশে যোগদান না করলেও পথের দুই পাশে দাঁড়ানো নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছার প্রত্যুত্তর দেন। বেগম খালেদা জিয়া গতকাল সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে বের হওয়ার পর তৃতীয় কর্ণফুলী সেঁতু পার হতে হতে হাজারো গাড়ি এই বহরে যুক্ত হয়। বেগম খালেদা জিয়ার কক্সবাজারের রামু সফর উপলে বেশ কয়েক দিন ধরে দণি চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
এ সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে সাজিয়ে তোলা হয় বর্ণাঢ্য ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে।
পটিয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, সৈয়দ সাহাদাত আহমদ, এনামুল হকের নেতৃত্বে, চন্দনাইশে এলডিপির পে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, নুরুল আনোয়ার চৌধুরী প্রমুখের নেতৃত্বে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী বেগম খালেদা জিয়া ও তার সফরসঙ্গীদের শুভেচ্ছা জানান।
এ দিকে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর পটিয়া আসার আগে দণি জেলা যুবদলের সভাপতি বদরুল খায়েরের নেতৃত্বে ও গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলের সভাপতিত্বে ডাকবাংলো মোড়ে পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মইন আহমদ । এই সফরে খালেদা জিয়ার সাথে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দণি জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ, এলডিপি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা, মহানগর আমির ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম ও সাবেক এমপি মহানগর নায়েবে আমির শাহজাহান চৌধুরী রয়েছেন।
কক্সবাজার সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের উদ্দেশে বেগম জিয়ার গাড়িরবহর দুপুর সাড়ে ১২টায় চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারি স্টেশন অতিক্রম করছিল বলে জানা গেছে। বেগম জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিশেষ করে এক নজর দেখতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রতিটি স্টেশনে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছে।
এ দিকে চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড সকাল থেকে লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। বর্ণাঢ্য ব্যানার, ফেস্টুন, ধানের শীষ ইত্যাদি নিয়ে লাখো জনতা অপেক্ষা করছে বেগম জিয়ার জন্য।
চকরিয়ার জনসভায় যোগদানের জন্য চট্টগ্রামের বাঁশখালী, লোহাগাড়া, বান্দরবানের লামা,আলীকদম, কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া, মহেশখালীসহ দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন চকরিয়া বাস্টস্ট্যান্ড ময়দানে। সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সাহাল উদ্দিন আহমদসহ নেতারা বেগম জিয়াকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছেন। অপর দিকে রামুর খিজারী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ ইতোমধ্যেই ভরে গেছে। আরো কয়েক ঘণ্টা বাকি অথচ এর মধ্যেই কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই অবস্থা।
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। দীর্ঘ ১৬ বছর পরে খালেদা জিয়ার এ সড়কপথে কক্সবাজার সফর উপলে ভোর হওয়ার সাথে সাথে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানীহাট এলাকায় জমায়েত হতে থাকেন। খালেদা জিয়ার আগমনকে কেন্দ্র করে কেরানীহাটে আসা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন সহকারে মহাসড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে থেকে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। তবে সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি দুই কমিটিতে বিভক্ত থাকায় তারা আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত হয়নি।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম দণি জেলার উদ্যোগে গতকাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বেলা ১১টায় জেলার পটিয়া, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে শিবিরের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিসংবলিত পোস্টার নিয়ে আরাকান সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা অবৈধ ও নীলনকশার ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবি করে স্লোগান দেয়। গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের ছবিসংবলিত পোস্টার বহন করে। মানববন্ধনে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যোগ দেয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s