বাগেরগাটে হিন্দুদের উপর হামলা, প্রশাসন-পুলিশ দর্শক (Govt, police failed to save Hindus in Bagerhat from torture)

জনকন্ঠ, নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগেরহাট, ৩১ জুলাই ॥ বাগেরহাটের ফকিরহাটে ফুটবল খেলা নিয়ে বাচ্চাদের ঝগড়ার জের ধরে সংখ্যালঘু একটি গ্রামে হামলা চালিয়ে বেপরোয়া মারপিট, মহিলাদের শ্লীলতাহানি ও ৫টি বাড়ি ভাংচুর ও গণলুটপাট করেছে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা।

সোমবার রাতে স্থানীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা সায়েদ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে শহীদ মেম্বর, তার ভাই রিক্ক, মজিদ সরদারের ছেলে মামুন, তার ভাই ছুটে, ইদ্রিস আলী, আইয়ুব আলীর ছেলে বাবুল, আলতাফ হোসেনের ছেলে সুজন, নজরুল ইসলামের ছেলে এরশাদ আলী, মনো ফকিরের ছেলে মোজাম ফকির ও লিটন ফকিরসহ ৪০/৫০ সন্ত্রাসী লাঠিসোটা, দা-কুড়াল ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত ব্রহ্মডাঙ্গা গ্রামে এ গণহামলা ও লুটপাট চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলা, মারপিট ও দায়ের কোপে স্থানীয় মেম্বর মকর ম-ল, তার স্ত্রী নমিতা ম-ল, সুব্রত রায়, তার স্ত্রী বাসন্তী রানী রায়, মেয়ে সুপর্ণা রায়, নিরাপদ ম-লের ছেলে তাপস ম-ল ও পলাশ ম-ল, পলাশের স্ত্রী মাধুরী রানী ম-ল, সমীর মজুমদারের ছেলে সম্রাট মজুমদার, গোপাল রায়ের ছেলে স্বপন রায়, গোপাল রায়ের স্ত্রী শোভা রানী রায় ও বলরাম মন্ডলের ছেলে প্রহ্লাদ মন্ডলসহ ২০জন আহত হয়।

Hindu-Muslim Violence: The Satkhira frustration

অনুসন্ধান সাতক্ষীরা: ‘আদর্শহীন রাজনীতির ফল’

অনুসন্ধান সাতক্ষীরা: ‘পুলিশ দেখছিল’

অনুসন্ধান সাতক্ষীরা: ‘জামায়াতের ইন্ধনেই হামলা-আগুন’

পরশুরামে চার মন্দিরে ভাংচুর, লুটপাট

আহতদের ফকিরহাট হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সেখানে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলা করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় ওই গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় নলধা ফাড়ির পুলিশকে খবর দিলেও তারা দুই ঘন্টা পরে ঘটনাস্থলে যায় বলে আহতরা অভিযোগ করেছে।

খবর পেয় মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবপ্রসাদ পাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান খান জাহিদ হাসান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মহসীন আলী, সাবেক চেয়ারম্যান আজাহার মোড়ল, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিবপ্রসাদ ঘোষ, ফকিরহাট উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোতোষ রায় কেষ্টসহ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। আতঙ্কের প্রেক্ষাপটে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহত ইউপি মেম্বর মকর মন্ডল জানান, চারদিন আগে স্থানীয় স্কুল মাঠে বাচ্চাদের একটি ফুটবল খেলা নিয়ে তারা ঝগড়া করে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে সেটি মীমাংসা করে দেয়। এ ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষ বিএনপি ও জোট সরকারের সময়ের ক্যাডার ও চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা ও মাদক বিক্রেতা সায়েদ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে শহীদ মেম্বর, তার ভাই রিক্ক, মজিদ সরদারের ছেলে মামুন, তার ভাই ছুটে, ইদ্রিস আলী, আইয়ুব আলীর ছেলে বাবুল, আলতাফ হোসেনের ছেলে সুজন, নজরুল ইসলামের ছেলে এরশাদ আলী, মনো ফকিরের ছেলে মোজাম ফকির ও লিটন ফকিরসহ ৪০/৫০জন সন্ত্রাসী লাঠিসোটা, দা-কুড়াল ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বেপরোয়া মারপিট করে। এ সময় তার চিৎকারে তার স্ত্রী বাসন্তী এগিয়ে এসে সন্ত্রাসীরা তাকে ও তার মেয়েকে বেপরোয়া মারপিট করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা গ্রামের যাকেই সামনে পায় তাকেই মারপিট ও কুপিয়ে জখম করে। পরে তারা তার বাড়িসহ ৫টি বাড়ি ভাংচুর করে সর্বস্ব লুটপাট করে। সন্ত্রাসীরা গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুদের মারপিট করে বেপরোয়া নির্যাতন করে। সন্ত্রাসীদের হাতে গ্রামের ৮/১০ মহিলা লাঞ্ছনার ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়। তখন চিৎকার চেঁচামেচি করে গ্রামের ৩/৪শ’ নারী পুরুষ ঘরবাড়ি থেকে পালিয়ে বাগানে ও জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। গ্রামের সন্ত্রাসীরা এক নারকীয় কান্ড সৃষ্টি করে। পরে খবর চেয়ারম্যান এসেও সন্ত্রাসীদের নিবৃত করতে ব্যর্থ হয়। এলাকায় চরম আতঙ্ক বিস্তার করছে।

———————–

বাগেরহাট, জুলাই ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

বাগেরহাটের ফকিরহাটে হিন্দু অধ্যুষিত একটি গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে। ভাংচুর হয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যসহ দুই ব্যক্তির বাড়ি।

নলধা মৌভোগ ইউনিয়নের নলধা ব্রহ্মডাঙ্গা গ্রামে সোমবার রাতে এই হামলার পর ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবপ্রসাদ পাল পুলিশ মোতায়েনের সুপারিশ করেছেন। একই দাবি জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মোহম্মদ মহসীনও।

তবে ফকিরহাট থানার ওসি লিয়াকত হোসেন বলেছেন, পুলিশ মোতায়েনের পরিস্থিতি হয়নি।

এই বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নিয়ামত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নলদা ব্রহ্মডাঙ্গা গ্রামে হামলাকারীরা চি‎িহ্নত সন্ত্রাসী এবং দুর্ধর্ষ প্রকৃতির।

“তারা এলাকার হিন্দু সম্ú্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে,” বলেন তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, “এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে ফকিরহাট থানার ওসিকে বিভিন্ন সময় জানানো হলেও তাদের তৎপরতা এখনো কমেনি।”

সোমবারের হামলায় আহতরা হলেন- সুব্রত রায় (৪০), তার স্ত্রী বাসন্তী রায় (৩৪), তাদের স্কুলপড়–য়া মেয়ে সুবর্ণা রায় (১৩), স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মকর মণ্ডলের ছোট ভাই তাপস মণ্ডল (২২), পলাশ মণ্ডল (৩০) ও প্রহ্লাদ মণ্ডল (১৯)।

এর মধ্যে সুব্রত ও তাপসকে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার ব্রহ্মডাঙ্গা মাঠে স্থানীয় কিশোরদের মধ্যে ফুটবল খেলা চলাকালে বিপ্লব ও বাবুল শেখ নামে দুই কিশোরের সঙ্গে স¤্রাট ও ঝংকার নামে দুই হিন্দু কিশোরের মারমারি হয়। তার জের ধরেই সোমবারের হামলা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মোহম্মদ মহসীনসহ গ্রামের বাসিন্দারা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শনিবারের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হলেও সোমবার রাত ৮টার দিকে নলধা গ্রামের শহীদ মাতুব্বর ও ছুটে সরদারের নেতৃত্বে অন্তত ৫০ জন লোক লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত নলধা ব্রহ্মডাঙ্গা গ্রামে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মকর মণ্ডল এবং সুব্রত রায়ের বাড়ি ভাঙচুর করে।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ওই রাতেই ফকিরহাট থানার ওসি লিয়াকত হোসেনকে ঘটনা জানিয়ে পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাতে ফল না হওয়ায় তারা আতঙ্কে ভুগছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবপ্রসাদ পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দেন। একইসঙ্গে তিনি গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফকিরহাট থানার ওসিকে চিঠি দিয়েছেন।

এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মহসীনও এলাকায় পুলিশ মোতায়েনের জন্য ওসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

দেবপ্রসাদ পাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সোমবার রাতে ফকিরহাট থানার ওসি আমাকে জানিয়েছিলেন। আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার ও প্রত্যক্ষদর্শী অর্ধশতাধিক মানুষের সঙ্গে আমি কথা বলেছি।

“পার্শ্ববর্তী গ্রামের শহীদ ও ছুটে নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।”

দেবপ্রসাদ জানান, তিনি বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘুরে আসার পর মঙ্গলবার বিকালে ফকিরহাট থানার ওসি লিয়াকত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে ওসি বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে তাদের চি‎িহ্নত করা হচ্ছে।”

ওই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

2 thoughts on “বাগেরগাটে হিন্দুদের উপর হামলা, প্রশাসন-পুলিশ দর্শক (Govt, police failed to save Hindus in Bagerhat from torture)

  1. Pingback: Hindu houses set afire over building a mosque « fight corruption, crime & cruelty

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s