ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল-এর মালিকানা, জঙ্গি কার্যক্রমের বিষয়টি জানতো বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রথম আলো জুলাই ১৯, ২০১২

মার্কিন সিনেটের একটি উপকমিটি বাংলাদেশের দুটি ব্যাংকের সন্ত্রাসী অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার যে অভিযোগ তুলেছে, তা নতুনভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেছেন, এটি পুরোনো ইস্যু। এ প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে এ বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান আজ বুধবার নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান।
মূলত মেক্সিকোর মাদক ব্যবসার অবৈধ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবাজারে প্রবেশের ঘটনা অনুসন্ধানে গঠিত মার্কিন সিনেটের একটি উপকমিটি তদন্তে নামে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ আন্তর্জাতিক ব্যাংক হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন বা এইচএসবিসির সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিং কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় সিনেট কমিটি। গত সোমবার সিনেট কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটে এ প্রতিবেদনের শুনানির সময় এইচএসবিসির প্রধান ইরিন এ ড্রোনার এর দায়দায়িত্ব স্বীকার করে নেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে যাতে এর পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেন।
এই প্রতিবেদনেই বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক ও স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থের লেনদেন ও সন্ত্রাসবাদে অর্থের জোগানে সহযোগিতা দেওয়ার মতো অপরাধের কথা বলা হয়েছে। অপরাধমূলক এ ধরনের কাজে এই ব্যাংক দুটিকে সহযোগিতা দিয়েছে এইচএসবিসি। এই ব্যাংকের দুর্বল নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাংক দুটিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও মাদক ব্যবসার অবৈধ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের ৩৭ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সৌদি আরবের আল রাজি গ্রুপের হাতে। আল রাজি অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নে জড়িত বলে সন্দেহ করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) মালিকানায়ও রয়েছে সৌদিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশন (আইআইআরও) এবং ইসলামিক চ্যারিটেবল সোসাইটি লাজনাথ আল-বির আল ইসলাম। এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসী অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। এইচএসবিসি বাংলাদেশের এই দুই ব্যাংকের আন্তর্জাতিক লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী ব্যাংক (অ্যাড কনফর্মেশন) হিসেবে কাজ করেছে।
এসব তথ্য দেশে-বিদেশে দুদিন ধরে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। এ নিয়ে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আরও বলেন, এ প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, জরিমানা করেছে। এন্টি মানি লন্ডারিং বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত শক্ত। সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নতুন সফটওয়্যার সংযোগ করা হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশ এন্টি মানি লন্ডারিং বিষয়ে পিছিয়ে পড়লেও বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। আর এগুলো পুরোনো ইস্যু। প্রতিবেদনটি নতুন করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গভর্নরের আগে ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, দুটি ব্যাংকের এ ঘটনা ২০০৫-০৭ সময়কার পুরোনো ইস্যু। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সে সময় যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেছে, প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আরও অনুসন্ধান করে বাংলাদেশের আইনের মধ্যে থেকে যা করণীয়, তা করা হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক এন্টি মানি লন্ডারিং বিভাগের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট করা হয়েছে। নতুন দুটি আইনও পাস করা হয়েছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s